এখানে আমরা সিদরাতুল মুনতাহা নামের অর্থ এবং বিস্তারিত আলোচনা করেছি । এই নাম সম্পর্কে এখান থেকে অনেক কিছু জানতে পারবেন । আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক ।

সিদরাতুল মুনতাহা নামের অর্থ ও এর গুরুত্ব :
সিদরাতুল মুনতাহা (Sidrat al-Muntaha) একটি আরবি শব্দ যা ইসলামী ধর্মে মধ্যে একটি বিশেষ গুরুত্ব ধারণ করে। এটি দুটি অংশে বিভক্ত: “সিদরা” এবং “মুনতাহা”। এই নামের অর্থ এবং এর দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব নিয়ে এখানে আলোচনা করা হল।
“সিদরাতুল মুনতাহা” নামের অর্থ
সিদরাতুল মুনতাহা (আরবি: سِدْرَةُ الْمُنْتَهَىٰ — Sidrat al-Muntahā)—এটা মূলত কুরআন-হাদিসে উল্লেখিত একটি আসমানি “সিদর/লত-গাছ” (lote tree)–এর নাম।
- সিদরাহ/সিদরাত (Sidrah/Sidrat): “সিদর” বা “লত/বরইজাতীয় গাছ” বোঝায়।
- আল-মুনতাহা (al-Muntahā): “শেষ সীমানা/চূড়ান্ত সীমা/শেষ প্রান্ত” বোঝায়।
✅ তাই পুরো অর্থ দাঁড়ায়: “চূড়ান্ত সীমানার সিদর/লত-গাছ” বা “সর্বশেষ সীমার লত-গাছ”।
এর গুরুত্ব কেন এত বেশি?
১) কুরআনে সরাসরি উল্লেখ আছে
সূরা আন-নাজমে “সিদরাতুল মুনতাহা” উল্লেখ এসেছে (৫৩:১৪–১৬)—যেখানে নবী মুহাম্মদ ﷺ-এর মিরাজের প্রসঙ্গ আসে।
২) ইসরা ও মিরাজের বিশেষ “সীমারেখা”
সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় আছে—রাতের সফরে (মিরাজে) নবী ﷺ-কে Sidrat-ul-Muntaha-তে নেওয়া হয়; এটাকে এমন জায়গা হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে যেখানে উপরে ওঠা ও ওপর থেকে নামা বিষয়গুলোর “শেষ সীমা” এসে থামে।
৩) আল্লাহর নৈকট্য ও ‘মানব-ফেরেশতা জ্ঞানের সীমা’—এর প্রতীক
ইসলামি ব্যাখ্যাগুলোতে এটি এমন এক “সীমা” হিসেবে বোঝানো হয়—যার পরের বিষয় আল্লাহর বিশেষ জগত/গায়েবের ব্যাপার, যেখানে সৃষ্টির জ্ঞান-সীমা শেষ হয় (বিস্তারিত ব্যাখ্যা বিভিন্ন তাফসির/আলিমদের আলোচনায় পাওয়া যায়)।
নাম হিসেবে তাৎপর্য (কী বার্তা বহন করে)
“সিদরাতুল মুনতাহা” নামটি সাধারণভাবে যে অর্থবোধ ও মূল্যবোধকে ইঙ্গিত করে:
- উচ্চতা ও নৈকট্য (আধ্যাত্মিকভাবে “চূড়ান্ত” লক্ষ্য)
- সীমা বুঝে বিনয় (মানুষের জ্ঞান-ক্ষমতার সীমা আছে)
- পবিত্র স্মৃতি (মিরাজের ঘটনাকে মনে করিয়ে দেয়)
দক্ষিণ এশিয়ায় এটি বিশেষ করে মেয়েদের নাম হিসেবে প্রচলিত, যদিও শব্দগঠনটি আসলে একটি কুরআনি/ধর্মীয় উপাধি-ধারণার নাম।
শব্দগত বিশ্লেষণ :
সিদরা (Sidra): আরবি শব্দ “সিদরা” একটি বিশেষ বৃক্ষের নাম, যা পৃথিবীর উপরিতলে বৃদ্ধি পায়। এটি সাধারণত ‘লোটাস গাছ’ বা ‘নবী গাছ’ হিসাবে পরিচিত। কুরআনে এই গাছের উল্লেখ আছে এবং এটি পবিত্রতা ও উচ্চমানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
মুনতাহা (Muntaha): এই শব্দটির অর্থ “শেষ সীমা” বা “চূড়ান্ত পর্যায়”। এটি এমন একটি স্থান বা অবস্থা নির্দেশ করে যা অতিক্রম করা যায় না।
নামের উৎস ও ইতিহাস
সিদরাতুল মুনতাহা একটি আরবি নাম, যা ইসলামী ইতিহাস ও ধর্মীয় গ্রন্থে গভীর তাৎপর্য বহন করে। এই নামটি কুরআন শরীফে উল্লেখিত হয়েছে, যা এটিকে আরও পবিত্র ও সম্মানিত করে। এই নামের উৎস মূলত সপ্তম আসমানের একটি বিশেষ গাছের সাথে যুক্ত, যা নবী মুহাম্মদ (সাঃ)-এর মি’রাজের ঘটনার সাথে সম্পর্কিত। এই গাছটি আধ্যাত্মিক জগতের একটি প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
কোরআনে সিদরাতুল মুনতাহা :
কুরআনে, সিদরাতুল মুনতাহার উল্লেখ পাওয়া যায় সূরা আন-নাজম (৫৩:১৩-১৬) এ। এখানে বলা হয়েছে, এটি সপ্তম আসমানের উপর এমন একটি গাছ যার চূড়ায় রয়েছে সৃষ্টির সর্বোচ্চ সীমা। নবী মুহাম্মদ (সঃ) মিরাজের রাতে এই গাছের নিকটে পৌছেছিলেন, যা মহান রবের সাথে তার সরাসরি সাক্ষাতের প্রমান। এই গাছটির পাশে জান্নাতের প্রবেশদ্বার এবং আল্লাহর সিংহাসন অবস্থিত বলে বিশ্বাস করা হয় ।
সিদরা: প্রকৃতির প্রতীক
‘সিদরা’ শব্দটি একটি গাছের নাম, যা প্রকৃতির সৌন্দর্য ও শান্তির প্রতীক। এই গাছটি মরুভূমির মাঝে ছায়া ও সুরক্ষা দেয়, যা মানুষের জীবনে আশ্রয় ও শান্তির প্রতিনিধিত্ব করে। এই নামটি শুনলেই মনে একটি পবিত্র ও শান্তিময় অনুভূতি জাগে।
সিদরা: কেন “প্রকৃতির প্রতীক” বলা যায়?
১) বাস্তব গাছ হিসেবে—সহনশীলতা ও টিকে থাকার প্রতীক
“সিদর/সিদরা” বলতে অনেক সময় Sidr tree বোঝানো হয়—যেটাকে সাধারণভাবে lote tree / Arabian jujube বলা হয় (বৈজ্ঞানিক নাম: Ziziphus spina-christi)। এটি শুষ্ক আবহাওয়ায় টিকে থাকা, ছায়া দেওয়া, এবং ফল/মধুর মতো উপকারের কারণে আরব অঞ্চলে বিশেষভাবে পরিচিত।
২) ধর্মীয় ধারণা হিসেবে—সৃষ্টিজগতের “সীমা” ও বিনয়ের প্রতীক
“সিদরাতুল মুনতাহা” ইসলামী বর্ণনায় এক চূড়ান্ত সীমানার বৃক্ষ—যেখানে ফেরেশতাদের জ্ঞান/পৌঁছানোর সীমা শেষ হয়; মিরাজে নবী ﷺ-এর সফরে জিবরাইল (আ.)-এর থেমে যাওয়ার প্রসঙ্গও এতে জড়িত বলা হয়।
৩) প্রতীকের ভাষায়—মাটি ও আসমানের সংযোগ
আধুনিক প্রতীকী ব্যাখ্যায় (যেমন “Sidra tree”–কে ব্র্যান্ড/প্রতিষ্ঠানগত প্রতীক হিসেবে ব্যবহার) এটাকে এমন এক গাছ হিসেবে দেখা হয়—
- শেকড় মাটিতে (বাস্তব জীবন/প্রকৃতি)
- ডালপালা আকাশের দিকে (উন্নতি/আধ্যাত্মিকতা/আকাঙ্ক্ষা)
এবং কঠিন পরিবেশেও দাঁড়িয়ে থাকা—perseverance & nourishment—এর বার্তা দেয়।
BBC
আপনি “সিদরা: প্রকৃতির প্রতীক” হিসেবে কীভাবে ব্যবহার করতে পারেন (২–৩টি সুন্দর ভাবনা)
- সহনশীলতা: “ঝড়-খরায়ও টিকে থাকা এক বৃক্ষ—সিদরা।”
- পুষ্টি ও আশ্রয়: “ছায়া দেয়, ফল দেয়—প্রকৃতির মমতার নাম সিদরা।”
- বিনয় ও সীমা-জ্ঞান: “যেখান থেকে ‘জানা’ থামে, সেখান থেকেই ‘অর্থ’ শুরু—সিদরা।”
মুনতাহা: সীমার শেষ
‘মুনতাহা’ শব্দটির অর্থ হলো শেষ সীমা বা চূড়ান্ত গন্তব্য। এটি জীবনের সেই পর্যায়কে বোঝায় যেখানে মানুষ তার আধ্যাত্মিক যাত্রার শীর্ষে পৌঁছে। এটি একটি স্থান যেখানে মানুষ আল্লাহর নৈকট্য অনুভব করে এবং তার হৃদয় শান্তিতে ভরে ওঠে।
কঠিন শব্দ ও তাদের অর্থ
ধর্মীয় গুরুত্ব
সিদরাতুল মুনতাহা নামটি শুধু একটি নাম নয়, এটি একটি আধ্যাত্মিক ধারণা। কুরআনে এই নামটি মি’রাজের ঘটনার সাথে যুক্ত, যেখানে নবী মুহাম্মদ (সাঃ) আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছেছিলেন। এই নামটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে জীবনের লক্ষ্য হলো আল্লাহর কাছে পৌঁছানো এবং তার সন্তুষ্টি অর্জন করা। এটি আমাদের জীবনে ধৈর্য, বিশ্বাস এবং ভক্তির গুরুত্ব শেখায়।
সিদরা/সিদরাতুল মুনতাহা—ধর্মীয় গুরুত্ব (ইসলাম)
১) কুরআনে সরাসরি উল্লেখ
সূরা আন-নাজম (৫৩:১৪–১৬)-এ “সিদরাতুল মুনতাহা” উল্লেখ আছে—মিরাজের প্রেক্ষাপটে, যেখানে “লত-গাছকে যা আচ্ছাদিত করেছিল তা আচ্ছাদিত করল”—এভাবে বিশেষ এক মহিমান্বিত দৃশ্যের কথা আসে।
২) মিরাজের “সর্বশেষ সীমানা/উচ্চতম সীমা”
সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় সিদরাতুল মুনতাহা এমন এক স্থান—
- যেখানে পৃথিবী থেকে ওঠা বিষয়গুলো এসে থামে
- এবং উপর থেকে নামা বিষয়গুলো এসে থামে
এটি “চূড়ান্ত সীমা” (মুনতাহা) ধারণাটিকে খুব স্পষ্ট করে।
৩) সালাত (নামাজ) ফরজ হওয়ার ঘটনার সঙ্গে সংযোগ
সহিহ বুখারির এক বর্ণনায় মিরাজে ৫০ ওয়াক্ত থেকে কমে ৫ ওয়াক্ত সালাত নির্ধারিত হওয়ার ঘটনা আসে এবং এরপরই নবী ﷺ-কে সিদরাতুল মুনতাহা-তে পৌঁছানোর কথা বর্ণিত। ৪) গায়েবি জগতের মহিমান্বিত নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা
হাদিসে সিদরাতুল মুনতাহা সম্পর্কে খুব জীবন্ত বর্ণনা পাওয়া যায়—ফল-পাতার বিশালত্ব, এবং এর গোড়া থেকে চারটি নদীর উৎস ইত্যাদি।৫) (তাফসিরে) “সৃষ্টির জ্ঞানের সীমা” ভাবনা
ক্লাসিক তাফসিরে এটি এমন এক জায়গা/নিদর্শন হিসেবে ব্যাখ্যাত—যা সৃষ্টিজগতের সীমা ও আল্লাহর বিশেষ আদেশ-জগতের ধারণা মনে করায় (ব্যাখ্যাভেদে বিস্তারিত আলোচনা আছে)।
চাকরি জীবন নিয়ে স্ট্যাটাস| চাকরি জীবন নিয়ে ক্যাপশন
সংক্ষেপে গুরুত্বের সারকথা
সিদরাতুল মুনতাহা মনে করায়:
- মিরাজের এক অতুলনীয় অধ্যায়
- আল্লাহর আদেশ ও গায়েবি জগতের মহিমা
- এবং মানুষের/ফেরেশতার জ্ঞান-সীমা ও বিনয়ের শিক্ষা
কেন এই নামটি বেছে নেবেন?
সিদরাতুল মুনতাহা নামটি শুধু সুন্দরই নয়, এটি একটি গভীর অর্থ বহন করে। এটি এমন একটি নাম যা আপনার সন্তানের জীবনে আধ্যাত্মিকতা ও পবিত্রতার ছোঁয়া নিয়ে আসবে। এই নামটি বেছে নেওয়ার মাধ্যমে আপনি আপনার সন্তানের জন্য একটি উচ্চ আদর্শ ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার পথ দেখাতে পারেন।
আধ্যাত্মিক অর্থ :
সিদরাতুল মুনতাহা কেবলমাত্র একটি স্থান বা গাছ নয়; এটি আধ্যাত্মিকতার একটি প্রতীক। এটি সীমা ও চূড়ান্ততার প্রতীক হিসাবে মনে করা হয়, যেখানে একজন বিশ্বাসী সমস্ত দুনিয়াবি আকাঙ্খা ও কামনা ত্যাগ করে। এটি এমন একটি পর্যায় নির্দেশ করে যেখানে আত্মা মহান রবের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে সক্ষম হয় এবং এক অনন্য ধ্যানমগ্ন অবস্থা প্রাপ্ত হয় ।
দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি :
দার্শনিকভাবে, সিদরাতুল মুনতাহা প্রতীকীভাবে মানুষের আধ্যাত্মিক যাত্রার চূড়ান্ত পর্যায় বোঝায়। এটি একটি সীমা যেখানে মানব চিন্তা এবং অনুভূতি আর কার্যকরী হয় না, যেখানে শুধুমাত্র আল্লাহ্র অস্তিত্ব উপলব্ধি করা যায়। এটি মানব জীবনের শেষ সীমান্ত, যেখানে সবকিছু শেষ হয়ে আল্লাহ্র সাথে মিলিত হওয়ার আশা প্রকাশ পায়।
সিদরা/সিদরাতুল মুনতাহা: দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি
সিদরাতুল মুনতাহা—ধর্মীয়ভাবে একটি গায়েবি নিদর্শন, আর দার্শনিকভাবে এটি খুব শক্তিশালী এক প্রতীক: “সীমা”, “অতীত-অজানা”, “জ্ঞান”, “বিনয়”, “অর্থ”—এই কয়েকটা বড় ধারণাকে এক জায়গায় এনে দেয়।
১) জ্ঞানের সীমা ও “বিনয়ের দর্শন”
“মুনতাহা” মানে শেষ সীমানা। দার্শনিকভাবে এটা মনে করায়—
- মানুষ (এমনকি সৃষ্টিজগতের উচ্চতম জ্ঞানও) একটা জায়গায় এসে থামে
- কিছু সত্য/অর্থ আছে যা মানব-যুক্তির বাইরে
এটা epistemic humility—অর্থাৎ “আমি সব জানি না” এই বিনয়কে নৈতিক গুণ হিসেবে তুলে ধরে।
২) “সীমারেখা” যেখানে বিজ্ঞান/যুক্তি থামে, অর্থ/অভিজ্ঞতা শুরু
জীবনে অনেক প্রশ্ন আছে—“কেন আমি?”, “কেন কষ্ট?”, “ভালো-মন্দের মানে কী?”
এগুলোতে যুক্তি সাহায্য করে, কিন্তু অনেক সময় শেষ পর্যন্ত মানুষ বাঁচে অর্থ (meaning), অভিজ্ঞতা (experience), আস্থা (trust/faith)—এই তিনটার ওপর দাঁড়িয়ে। সিদরা এখানে এক প্রতীক: শেষ সীমার পরে আছে ‘অর্থের জগত’।
৩) “চূড়ান্ত লক্ষ্য” বনাম “চূড়ান্ত সীমানা”
দার্শনিকভাবে সুন্দর এক দ্বৈততা আছে—
- একদিকে, এটি চূড়ান্ত লক্ষ্য (মানুষের আকাঙ্ক্ষা: উৎকর্ষ, নৈকট্য, পরিপূর্ণতা)
- অন্যদিকে, এটি চূড়ান্ত সীমানা (বোধ: সীমা আছে)
এই দ্বৈততা শেখায়: উঁচুতে ওঠো, কিন্তু সীমা ভুলে অহংকার করো না।
৪) নৈতিক শিক্ষা: সীমা মানা = দায়বদ্ধতা
সীমা মানা শুধু চিন্তা নয়—এটা নৈতিক আচরণও:
- ক্ষমতা থাকলেও অন্যায় না করা
- জ্ঞান থাকলেও দম্ভ না করা
- সিদ্ধান্তে “আমি ভুল হতে পারি” এই জায়গা রাখা
সিদরা প্রতীকীভাবে বলে: সীমা জানা মানেই সভ্যতা।
৫) “দেখা গাছ”—বেঁচে থাকার দর্শন
বৃক্ষ-প্রতীক (সিদর/লতগাছ) দার্শনিকভাবে আরও ইঙ্গিত দেয়:
- শিকড়: বাস্তবতা, মাটি, দৈনন্দিন দায়িত্ব
- ডালপালা: আদর্শ, স্বপ্ন, আধ্যাত্মিকতা
অর্থাৎ ভালো জীবন হলো—মাটিতে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে বাড়া।
কৃষ্ণচূড়া ফুল নিয়ে ক্যাপশন
এক লাইনের সারাংশ
সিদরাতুল মুনতাহা দার্শনিকভাবে হলো:
জ্ঞানের শেষ সীমানায় দাঁড়িয়ে বিনয়ের সাথে অর্থের দিকে তাকানোর প্রতীক।
আপনি চাইলে আমি এটা ৩ভাবে লিখে দিতে পারি—
- একদম সহজ ভাষায়, 2) কাব্যিকভাবে, 3) একটু একাডেমিক/ফিলসফিক টোনে—আপনার কোনটা দরকার?
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দিক
ইসলামী সংস্কৃতিতে এই নামটি অনেক সম্মানের সাথে দেখা হয়। এটি এমন একটি নাম যা পরিবার ও সমাজে শান্তি ও পবিত্রতার প্রতীক হিসেবে কাজ করে। এই নামের মাধ্যমে মানুষ তাদের সন্তানের জন্য একটি উচ্চ আদর্শ ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রত্যাশা করে।
ব্যক্তিগত পর্যায়ে, সিদরাতুল মুনতাহা নামটি আধ্যাত্মিকতা, পূর্ণতা এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে পৌঁছানোর প্রতীক। যারা এই নাম ধারণ করেন, তাদের মধ্যে আধ্যাত্মিক উচ্চতার একটি অভিলাষ এবং আত্মিক শুদ্ধতার প্রচেষ্টা থাকতে পারে। সাংস্কৃতিকভাবে, এই নামটি ইসলামী জগতে একটি বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্ব বহন করে, যা ঐতিহ্য, বিশ্বাস এবং ধর্মীয় শিক্ষার সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত।
ব্যক্তিগত প্রভাব
- নামের ভেতর “আকাঙ্ক্ষা”: মুনতাহা (চূড়ান্ত সীমা/শেষ প্রান্ত) ভাবটা অনেকের কাছে জীবনের লক্ষ্য–উচ্চতা–সাধনার ইঙ্গিত দেয়—নিজেকে উন্নত করা, ভালো থাকা, ভালো হওয়া।
- বিনয় ও সীমা-জ্ঞান: “সর্বশেষ সীমানা” ধারণা মানুষকে মনে করায়—জ্ঞান/ক্ষমতারও সীমা আছে; তাই অহংকার নয়, দায়িত্বশীলতা জরুরি।
- আধ্যাত্মিক সংযোগ: যারা ধর্মীয়ভাবে ভাবেন, তাদের কাছে নামটি মিরাজের পবিত্র স্মৃতি বহন করে—এটা identity ও values গঠনে প্রভাব ফেলে।
- ইতিবাচক আত্মপরিচয়: সুন্দর অর্থ ও পবিত্র প্রসঙ্গ থাকলে ব্যক্তি তার নামকে “ইন্সপিরেশন” হিসেবে নিতে পারে—বিশেষ করে আত্মবিশ্বাস, লক্ষ্য স্থিরতা, ও নৈতিকতা গঠনে।
সাংস্কৃতিক প্রভাব
- দক্ষিণ এশিয়ায় জনপ্রিয় নাম: বাংলাদেশ/ভারত/পাকিস্তান অঞ্চলে “সিদরা/সিদরাতুল মুনতাহা” নামটি মেয়েদের মধ্যে বেশ পরিচিত—ধর্মীয় শোনামাত্রায় “পবিত্রতা” ও “মর্যাদা”র অনুভূতি তৈরি করে।
- নামকরণের ট্রেন্ড: অনেক পরিবার কুরআনি/হাদিসের শব্দ বা ইসলামি প্রতীকধর্মী নাম বেছে নেয়—“সিদরা” এখানে সুন্দর, সংক্ষিপ্ত, উচ্চারণে কোমল হওয়ায় আরও গ্রহণযোগ্য হয়।
- কবিতা/সাহিত্য/মিডিয়ায় ব্যবহার: “সিদরা” শব্দটা শুধু ধর্মীয় নয়—অনেক জায়গায় এটা প্রকৃতি, নৈকট্য, সীমা, রহস্য—এই ভাবগুলো বোঝাতে রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা: এমন নাম সাধারণত সমাজে “ভালো পরিবারের নাম/ধর্মীয় আবহ” হিসেবে ধরা হয়—ফলে প্রথম পরিচয়ে এক ধরনের ইতিবাচক ইমপ্রেশন তৈরি হয় (যদিও ব্যক্তি-মানুষটাই আসল)।
বাস্তব দিক (একটু প্র্যাক্টিক্যাল নোট)
- দৈনন্দিন ব্যবহারে অনেকেই “সিদরা” নামটাই ব্যবহার করেন; “সিদরাতুল মুনতাহা” পূর্ণ নাম হলে সেটা ডকুমেন্ট/অফিশিয়াল জায়গায় বেশি দেখা যায়।
- নামের বানান/উচ্চারণে ভিন্নতা হতে পারে: Sidra / Sidrah / Sidrat / Sidratul—এটা সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত পার্থক্যের কারণে স্বাভাবিক।
উপসংহার :
সিদরাতুল মুনতাহা নামটি ইসলামী বিশ্বাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এটি আধ্যাত্মিকতার চূড়ান্ত স্তর বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এটি আধ্যাত্মিক যাত্রার চূড়ান্ত সীমা এবং আল্লাহ্র সাথে সরাসরি যোগাযোগের প্রতীক। এই নামটি ধারনকারী ব্যক্তি তাদের জীবনে পবিত্রতা, আধ্যাত্মিকতা এবং ধর্মীয় প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি উচ্চ স্তরে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। এই নামের মধ্যে একটি গভীর দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য রয়েছে, যা মানুষের জীবনের সর্বোচ্চ সীমা ও মহান রবের সাথে সংযোগের প্রতিফলন।